কুমিল্লায় ডিবির সাঁড়াশি অভিযানে ১০ চিহ্নিত ছিনতাইকারী গ্রেফতার
কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১০ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি। বৃহস্পতিবার রাতভর নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শামসুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার আড়াইওরা খানপাড়ার কামাল খানের ছেলে মো. রাকিব খান, একই এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মো. ইমন, শাসনগাছা এলাকার আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে মো. সাকিব, সংগ্রায়েস এলাকার মিলন মিয়ার ছেলে মো. নাহিদ, শাসনগাছা এলাকার আব্দুর সামাদের ছেলে মো. শরিফ, বজ্রপুর এলাকার মৃত শাহ আলমের ছেলে মো. রকি, গোবিন্দপুর এলাকার শহিদুল্লাহর ছেলে মো. ইয়াছিন, অশোকতলা এলাকার মো. আলী ইসলামের ছেলে মো. জাহিদ এবং মুরাদনগর থানার সাতমুড়া এলাকার শাহজাহানের ছেলে মো. সোহেল ও পাঁচপুকুরিয়া এলাকার খালেদের ছেলে মো. রবিন।মোঃ শামসুল ইসলাম বলেন, নগরীতে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইয়াবা বিক্রির ঘটনা আড়াল করতে থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ
কুমিল্লায় অলিউল আলম নামে ভারতীয় এক নাগরিক ইয়াবা বিক্রির ঘটনা আড়াল করতে থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেছেন। ডিবি পুলিশের তল্লাশি থেকে ছাড়া পেয়ে নিজের অপরাধ আড়াল করতে ওই নাগরিক কোতোয়ালি মডেল থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন। অলিউল আলম (৪২) ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার বক্সনগর থানার রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।জানা গেছে, ভারতীয় নাগরিক অলিউল আলম ভিসা নিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবত কুমিল্লায় আসা যাওয়ার মাধ্যমে ইয়াবার কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তার ইয়াবা কারবারের বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি পুলিশ) কাছে গোপন তথ্য আসে। তাছাড়া ওই কারবারি ইয়াবার স্যাম্পলের ছবি এবং ভিডিও কুমিল্লার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে প্রেরণ করেন। এতে ঊর্ধ্বতন অফিসারদের নির্দেশে ডিবির এসআই তৌকিক হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স সহ মাদক ব্যবসায়ী অলিউল আলমের ওপর অনলাইনে নজরদারি শুরু করে। গত ৩০ জুলাই ডিবির একজন সোর্স ভারতীয় নাগরিকের কাছে ইয়াবা ক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। এদিন দুপুরে কান্দিরপাড় বাহার মার্কেটের নিচতলায় অলিউল আলম ইয়াবার একটি প্যাকেট নিয়ে উপস্থিত হন।এ সময় আগে থেকে ওঁতপেতে থাকা ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে তল্লাশি চালায়। প্যাকেট খুলে দেখা যায় এতে বুটের ডাল। পরে পুরো ঘটনার ভিডিও করে উপস্থিত স্বাক্ষীদের সামনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরই মাঝে তার ইয়াবা বিক্রির বেশ কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এসব ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভারতীয় ওই নাগরিক কোতোয়ালি মডেল থানায় ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি বৈধ কাগজপত্র ও পাসপোর্টের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাই সকাল ১০টার দিকে বিবির বাজার চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং থানার আব্দুল মতিন ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত তার খালাতো ভাই মাহাবুবুল আলমের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।পরবর্তীতে খালাতো ভাইয়ের পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে দুপুর অনুমান ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টার মধ্যে কান্দিরপাড় বাহার মার্কেটের সামনে পৌঁছালে ৫/৬ জনের একদল অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। অভিযুক্তরা তার কাছে অবৈধ মালামাল আছে বলে একটি বিরিয়ানির দোকানের ভেতর নিয়ে যায়।সেখানে তার কাছ থেকে ভারতীয় ১৭,৫০০ রুপি, বাংলাদেশি নগদ ১১,৩০০ টাকা এবং গলায় থাকা আনুমানিক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইকারীরা তাকে থানায় সোপর্দ করার হুমকি দিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ড করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।ডিবি পুলিশ জানায়, মূলত ইয়াবা কারবার আড়াল এবং স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে এই অভিযোগ করেন ভারতীয় ওই মাদক ব্যবসায়ী। তবে অভিযোগে ডিবি পুলিশ কিংবা কারো নাম তিনি উল্লেখ করেননি। অলিউল আলম বলেন, আমি ভারতীয় নাগরিক বুঝতে পেরে ছিনতাইকারীরা আমার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি মাদক ব্যবসায় জড়িত নই।ডিবির এসআই তৌফিক হোসেন বলেন, সেদিন তার কাছে ইয়াবা না পাওয়ায় আমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছি। কুমিল্লার বহু মাদক সিন্ডিকেটের সাথে তার যোগসাজশ পাওয়া গেছে। তার ইয়াবা বিক্রির ছবি ভিডিও আমাদের হাতে রয়েছে।এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ভারতীয় এক নাগরিকের দেওয়া একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে তার বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির বেশ কিছু ছবি পুলিশের হাতে এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কুমিল্লা ডিবির ওসি মো. শামসুল আলম শাহ বলেন, অলিউল আলম একজন পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইয়াবা ব্যবসা আড়াল করতেই সে মিথ্যা ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেছে। বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠানো তার ইয়াবার ছবি ভিডিও আমাদের হাতে এসেছে। আমরা তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছি।
সদর দক্ষিণে ফুটপাতে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত ল্যাংড়া খোকন আটক
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজারে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোররাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজার এলাকায় একটি কনফেকশনারি দোকানের সামনের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে শনিবার (৪ জুলাই) সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৪টা ৮ মিনিটের দিকে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক মাঝবয়সী ব্যক্তি নারীর কাছে সাদা শার্ট ও লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তি এসে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে। কিছুক্ষণ পর বাজারের এক পাহারাদার ঘটনাস্থলে এসে ওই নারীকে দেখতে পান। পুলিশ জানায়, ভিডিও বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত হিসেবে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজারসংলগ্ন দুর্গাপুর এলাকার দুলা মিয়ার ছেলে খোকনকে (৫০) শনাক্ত করা হয়েছে। সে এলাকায় ‘ল্যাংড়া খোকন’ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, খোকন এলাকায় জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত এবং একজন চিহ্নিত জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত।এদিকে, দিনভর অভিযানের পর শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. খোকন ওরফে ল্যাঙড়া খোকনকে আটক করেছে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরেই পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করেছে। পরে, সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত খোকনকে আটক করা হয়৷ এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পরপরই অভিযুক্তকে আটকের জন্য অভিযান শুরু হয়েছিলো। পরে, অভিযান চালিয়ে ল্যাংড়া খোকন নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার পরিচয় শনাক্ত, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।